আর্কাইভ | ঢাকা, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ ০৩:১২:২৬ পূর্বাহ্ন
Photo
বিশেষ প্রতিবেদক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৬ নভেম্বর ২০২৬
০৮:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
আপডেটঃ
০৬ নভেম্বর ২০২৬
০৮:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

যে কারণে জামায়াত-এনসিপির দূরত্ব বাড়ছে 


জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে পথ চললেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দুই শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে দূরত্ব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। নির্বাচনে সমঝোতার বদলে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার প্রত্যাশা অপূর্ণ থাকা এবং বিরোধী দলের কার্যকারিতা নিয়ে এনসিপির অসন্তোষ এই দূরত্বের মূল কারণ। অতীতের মতো এবারও স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে জামায়াত। দলটির যুক্তি, জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতার কারণে তৃণমূলে যে সাংগঠনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে তা এড়াতে এককভাবে লড়লেই দলের ভিত্তি শক্ত হবে।

অন্যদিকে, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থনে ভালো ফল করার অভিজ্ঞতা থেকে এনসিপি স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতা বা ছাড় প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু জামায়াতের অনাগ্রহের কারণে এনসিপি ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রস্তুতি শুরু করেছে। এছাড়া, সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন এবং বিরোধিতার মাত্রায় নমনীয়তা নিয়ে জামায়াতের ওপর কিছুটা বিরক্ত এনসিপির একটি অংশ। সম্প্রতি কিছু নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যেও এই কৌশলগত পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জোটের সাম্প্রতিক লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি এই দূরত্বের গুঞ্জনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যদিও পরবর্তী পথসভায় দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতা অংশ নেন এবং উভয় পক্ষই জোটে ভাঙনের আশঙ্কা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ৬৮টি এবং এনসিপি ৬টি আসন পায়। পরে সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংসদে ৭৭ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন।

শরিকরা স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় রাজনীতি ও সংসদে ঐক্য অটুট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়ার ঐতিহ্য নতুন কিছু নয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “অতীতেও জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচন করলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো আলাদা অংশ নিয়েছে, এবারও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। এতে জোটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”

এনসিপি নেতারাও জোট ছাড়ার গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলেছেন। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সংস্কার বাস্তবায়ন ও বিচারের প্রশ্নে তারা জোটে ঐক্যবদ্ধ আছেন। তবে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা বজায় থাকবে এবং ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে তারা স্বাধীনভাবে অবস্থান স্পষ্ট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয় দলই পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াত ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই করেছে এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, এনসিপিও প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা পরিবর্তনের পর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে যথাক্রমে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মনোনয়ন দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।