আর্কাইভ | ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০৩:২১:০৫ পূর্বাহ্ন
Photo
এখন বাংলা ডেস্ক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৩ জুন ২০২৬
১০:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে


কয়েক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিরবৈরী দুই দেশ—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ শনিবার (১৩ জুন) এ ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পর্দার পেছনের আলোচনা অবশেষে চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে বলে বারবার দাবি করলেও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে তা এতদিন ঝুলে ছিল।


পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমরা একটি শান্তিচুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তান অবিলম্বে এই শান্তি চুক্তির ডিজিটাল স্বাক্ষরের (E-signing) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি স্তরের আলোচনা শুরু হবে।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও গত শুক্রবার রাতে এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের সময় এত কাছে আগে কখনোই আসেনি।’ উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই এই শান্তি আলোচনার মূল পর্বগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


চুক্তির আবহ তৈরি হলেও মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি থামেনি। শনিবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনী সেই ড্রোনগুলো আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমানে ওই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট এই হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই রুটটি অবরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে পার হতে দিচ্ছিল না। পাল্টা জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে তাদের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা চালায়।

শান্তিচুক্তির শর্তগুলো ইরানের পক্ষে যাচ্ছে—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ভুয়া গণমাধ্যমে ইরান যে সব শর্তের কথা প্রচার করছে, তার সঙ্গে আমাদের লিখিতভাবে একমত হওয়া শর্তগুলোর কোনো মিল নেই।’


অন্যদিকে, সম্পূর্ণ চুক্তি হওয়ার আগে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে চুক্তির কিছু খসড়া আভাস দিয়ে বলেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনে কিছু পরিবর্তন আনা হবে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরেই লঘু করা হবে।

আরাগচি জানান, চুক্তিটি দূরবর্তী প্রযুক্তির মাধ্যমে সই হতে পারে। যদিও সুইজারল্যান্ড এই চুক্তিটি তাদের দেশে সই করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও এ বিষয়ে তার সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।